
ইমানুয়েল মাখোঁ
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইউক্রেন–রাশিয়া শান্তি পরিকল্পনার কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও ইউরোপ ও ইউক্রেনের কাছে তা এখনো পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। ফরাসি গণমাধ্যম আরটিএল রেডিওকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রস্তাবটি “সঠিক দিকের উদ্যোগ” হলেও এতে এখনও এমন বেশ কিছু পয়েন্ট রয়েছে যা সংশোধন এবং আলোচনার দাবি রাখে।
মাখোঁ মনে করেন, শান্তির নামে এমন কোনো সমঝোতা করা যাবে না যা কার্যত ইউক্রেনের পরাজয় কিংবা আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দেয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, কিন্তু এমন কোনো শান্তি চাই না যা একপক্ষকে পুরোপুরি দুর্বল করে দেয়।’ তাঁর মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান এমন হতে হবে যেখানে উভয় পক্ষের বৈধ দাবি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
ইউক্রেনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইউক্রেনকেই
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, যেকোনো ধরনের ভূখণ্ডগত সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত একমাত্র ইউক্রেনেরই নেওয়া উচিত। কোন অঞ্চলে কী ধরনের শর্ত মানা হবে, কোন দিক ছাড়া দেওয়া হবে—সেসব শুধুমাত্র ইউক্রেনের জনগণ এবং নেতৃত্বই ঠিক করতে পারে। তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা যে শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তুলেছেন, তা রাশিয়ার জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে সে ধারণা পাওয়া গেছে। কিন্তু সেটি ইউক্রেন বা ইউরোপের নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এই প্রশ্নের উত্তর বর্তমান খসড়া দিতে পারছে না।
মাখোঁর মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ কেবল দুই দেশের যুদ্ধ নয়; এটি ইউরোপের নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং ভবিষ্যতের সামরিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। তাই শান্তি পরিকল্পনা তৈরিতে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোকেও প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাখতে হবে।
জব্দ রাশিয়ান সম্পদ ইউরোপেই থাকবে
সাক্ষাৎকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন যে ইউরোপে যেসব রাশিয়ান সম্পদ যুদ্ধের কারণে জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ইউরোপেরই হাতে রয়েছে। তিনি জানান, এসব সম্পদ বৈধভাবে জব্দ করা হয়েছে এবং সে বিষয়টি আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবেই বিবেচিত হবে।
ট্রাম্প পরিকল্পনায় মাখোঁর সতর্কবার্তা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগকে ইউরোপ থেকে কেউ সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও সতর্কতা প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা। মাখোঁ সেই তালিকায় অন্যতম। তাঁর মতে, বর্তমান খসড়া প্রস্তাব মূলত যুদ্ধ থামাতে কিছু দ্রুত সমাধান দেখালেও আন্তর্জাতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণে অনেক জায়গায় দুর্বল।
তিনি বলেন, ‘শান্তি কোনো দ্রুত সমাধান নয়। এর জন্য লাগবে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, রাজনৈতিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা।’
ভবিষ্যত আলোচনার গুরুত্ব
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে আগামী আলোচনাগুলোতে ইউক্রেনের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরিকল্পনার ফাঁক–ফোকর ঠিক করতে পারবেন। তিনি মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে যুদ্ধক্ষেত্র এবং কূটনৈতিক টেবিল—দুই দিকেই চাপ বজায় রাখতে হবে।
সার্বিকভাবে ইউরোপের বার্তা স্পষ্ট—শান্তি চাই, তবে তা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত ও নিরাপত্তাকে বলি দিয়ে নয়।