
রাশিয়ার দাবি বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি-পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধন করেছে ইউক্রেন। সুইজারল্যান্ডে মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও ও ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাকের নেতৃত্বে হওয়া বৈঠকে এই পরিবর্তন আনা হয়। সংশোধনের পর পূর্বের ২৮ দফা সংক্ষেপ হয়ে ১৯ দফায় দাঁড়িয়েছে পরিকল্পনাটি। আলোচনায় থাকা সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান আলোচনার পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, যদিও ইউরোপীয় নেতারা বলছেন দ্রুত কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই।
শান্তি-পরিকল্পনা সংশোধনের কারণ
ইউক্রেন এবং পশ্চিমা মিত্ররা স্পষ্ট জানিয়েছে যে আলোচনার ভিত্তি হতে হবে যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান ফ্রন্টলাইন। রাশিয়া যে অঞ্চল দখল করে নিয়েছে— সেগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া বা রাশিয়ার দাবির ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে তা রাশিয়ার আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার সমান হবে।
সূত্র বলছে, জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। কিয়েভ চাইছে আলোচনায় ইউরোপও যুক্ত থাকুক, যাতে আলোচনার ফলাফল দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।
বিতর্কিত ট্রাম্প-পরিকল্পনা থেকে সরে আসা
এর আগে ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ যে ২৮ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছিলেন, তাতে—
দনবাসের কিছু শহর ছেড়ে দেওয়া
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর আকার কমানো
ন্যাটোতে না যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
এসব শর্ত ছিল। এতে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। নতুন আলোচনায় এসব শর্ত আপাতত তুলে রাখা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রথম উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই কিসলিতসা জানান, সংবেদনশীল বিষয়গুলো ট্রাম্প ও জেলেনস্কি ভবিষ্যৎ বৈঠকে আলোচনা করবেন। জেলেনস্কি বলেন, পরিকল্পনায় অনেক অযৌক্তিক শর্ত বাদ গেছে এবং বাস্তবসম্মত কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
মার্কো রুবিও আলোচনা “খুবই ইতিবাচক” বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্পও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন যে, আলোচনার পরিবেশ আগের তুলনায় উন্নত।
আলোচনা চললেও থামছে না যুদ্ধ
কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও ইউক্রেন রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৩ জন নিহত, ১৬ জন আহত, বেসামরিক ভবন ও তেলবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর বন্দর নভোরোসিস্ক, রোস্তভ-অন-ডন এবং ক্রাসনোদার অঞ্চলে হামলা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সারা দেশে ২৪৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
রোস্তভের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানান, হামলায় ৪টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় এক আবাসিক ভবনে ড্রোন সরাসরি আঘাত করছে, তবে ভিডিওটি যাচাই করা যায়নি।
ক্রাসনোদারের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, অঞ্চলটি দীর্ঘ ও বড় হামলার শিকার হয়েছে এবং নভোরোসিস্কের সাতটি ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত।
কিয়েভও রুশ হামলার শিকার
অন্যদিকে রাশিয়া পাল্টা গত মঙ্গলবার ভোরে কিয়েভে হামলা চালায়। এতে দুটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে এবং একজন নিহত হয়।
ইউক্রেন ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চায় এবং ট্রাম্প প্রশাসন নমনীয় অবস্থান দেখাচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো— এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান সামনে আসেনি। আসন্ন জেলেনস্কি–ট্রাম্প বৈঠকই পরবর্তী পথনির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
(সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স)